৮ ঘণ্টার ব্যবধানে করুণ মৃত্যু হল হাটহাজারীর বাসিন্দা দুই ভাইয়ের। গতকাল (শুক্রবার) ৫ জুন জ্বর শ্বাসকষ্ট নিয়ে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।

করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে দুই ভাই চার দিন আগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর মধ্যে তাদের শ্বাসকষ্ট চরমে পৌঁছলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের আইসিইউতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। কিন্তু কোনোভাবেই আইসিইউর ব্যবস্থা করতে না পারার একপর্যায়ে শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালেই মারা যান শাহ আলম। অপর ভাই শাহজাহানও শ্বাসকষ্টে ভুগতে ভুগতেই রাত ১০টার দিকে মারা যান।

একটি আইসিইউর জন্য যতো টাকা লাগে, দিতে রাজি ছিল পরিবারটি। কিন্তু না, আইসিইউ মেলেনি। একটি আইসিইউর খোঁজে পুরো চট্টগ্রাম চষে বেড়িয়েছে তার স্বজনরা। মেলেনি শেষপর্যন্ত। কয়েকদিন আগে তাদের কাছ থেকে করোনা পরীক্ষার নমুনা নেওয়া হলেও ফলাফল এখনও পাওয়া যায়নি।
নিহত এই দুই ভাই হলেন হাটহাজারী পৌরসভা ৩নং ওয়ার্ডস্থ দেওয়ান নগর জোহরা বাপের বাড়ী নিবাসী মৃত গোলাম রসুল এর পুত্র শাহ আলম সবজি ব্যবসা করতেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে (দুবাই)। গত জানুয়ারিতে ছুটিতে দেশে আসার পর লকডাউনের মাঝে তিনি আটকা পড়ে আর দুবাইয়ে ফিরতে পারেননি। বিবাহিত শাহ আলমের ৬ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে তার ছোট ভাই শাহজাহানের রয়েছে হাটহাজারী কাচারি সড়কের এন জহুর শপিং সেন্টার নামে মার্কেটে একটি কাপড়ের ব্যবসায়ী। তিনি গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ হাটহাজারী পৌর ব্যবসায়ী সমিতির সমাজ কল্যাণ সম্পাদক। তার স্ত্রী ছাড়াও তার রয়েছে ৫ ও একবছর বয়সী দুটি সন্তান।

মরহুমের গোসল, কাপন-দাফনের কাজ সম্পন্ন করেন গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের সেচ্ছাসেবকরা

শনিবার সকাল ১১টার সময় মরহুমের গোসল, দাফনের কাজ সম্পন্ন করেন গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ গহিরা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহুাম্মদ মাসুদ রানা, মুহাম্মদ ফরহাদুল আবেদীন, শাকিল, মাওলানা হাসান, রেজা, মোঃ সুমন আলী, মোহাম্মদ জাবেদ।
এতে সহযোগিতা করেন- হাফেজ মহিউদ্দিন, হাফেজ নুরুল ইসলাম,হাফেজ মিনহাজ, হাফেজ ইয়াকুব, জানাযায় ইমামতি করেন অত্র মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ শাহেদ আলী,
দাফন কাজে পিপিসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন- হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোঃ জাহিদুল হক।

নির্ধারিত দূরুত্ব বজায় রেখে জানাজা সম্পূর্ণ হয়। গাউসিয়া কমিটির সদস্যরা মৃত দুই ভাই যতেষ্ট ধার্মীক ও সমাজ সেবী ছিলেন। বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলেন দুই ভাই। জানাজাতে করোনার কারণে জন সমাগম কম হয়েছে।

উল্লেখ্য দাফনে নজির বিহীন মানবিকতার এক মহাকাব্য রচনা করেছে গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ।সারা বাংলাদেশে ২ হাজার সেচ্ছাসেবক এই কাজ করে যাচ্ছেন।

(Visited 1 times, 1 visits today)

আরও পড়ুন

এবার মেয়েসহ করোনায়…
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুদান…
মুক্তাগাছায় বিশ্ব জনসংখ্যা…
মরহুম ফজলে রাব্বি…
অবশেষে জনসম্মুখে মাস্ক…
বিশ্বে একদিনে করোনার…
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে চট্টগ্রাম…
বাংলালিংক-এর ত্রাণ কার্যক্রমের…
সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে…

বৃহস্পতিবার শবে বরাত, তবে…

করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে বিশ্বজুড়ে প্রাণহানি…

করোনাঃ মৃত্যু ১, নতুন…

হাটহাজারীতে এক হাজার পরিবারের…

বন্ধু নির্বাচন করনীয়