পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যায় শুরু হয়েছে আম্পানের তাণ্ডব

সকালের কণ্ঠ

এরই মধ্যে এই ঝড়ের প্রভাবে উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে প্রবল বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছে।

ঝড়টির অবস্থান প্রসঙ্গে ভুবনেশ্বরের আবহাওয়া দফতরের কর্মকর্তা এইচআর বিশ্বাস এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, উড়িষ্যার পারাদ্বীপ থেকে সুপার সাইক্লোন আম্পান ৪২০ কিলোমিটার এবং দিঘা দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকা থেকে ৫৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। এদিকে বাংলাদেশের ক্ষেপুপাড়া থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে সাইক্লোনটি। সাইক্লোনটি ভয়ঙ্কর গতিতে পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যার দিকে এগিয়ে আসছে।

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া অফিসের ডিজি মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, উপকূলবর্তী জেলা জগৎসিংপুর, কেন্দ্রাপাড়া, ভদ্রক এবং বালাসোরে মঙ্গলবার থেকেই তুমুল ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

আম্পানের গতি ও ক্ষমতাকে ১৯৯৯ সালে উরিষ্যাকে লণ্ডভণ্ড করে দেয়া সাইক্লোনের সঙ্গে তুলনা করছেন ভারতের আবহাওয়াবিদরা।

সে কথা আমলে নিয়েই সব রকম প্রস্তুতি সেরেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

মঙ্গলবার ভারতের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের প্রধান এসএন প্রধান সাংবাদিকদের বলেন, গত বছরের ভয়াবহ সাইক্লোন ফণী থেকে শিক্ষা নিয়ে আম্পানের ক্ষয়ক্ষতি রুখতে প্রস্তত জাতীয় বিপর্যয় মোকাবেলা বাহিনী। যে কোনো পরিস্থিতির মোকাবেলায় পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যায় ইতিমধ্যে ৪০টি দল পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ওয়ারলেস সেট, স্যাটেলাইন ফোন এবং অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে গেছেন বাহিনীরা। ১৯৯৯ সালে উড়িষ্যার সুপার সাইক্লোনের মতো পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি চলছে।

ইতিমধ্যেই উপকূলবর্তী এলাকা থেকে ৩ লাখ মানুষকে সরিয়ে তাদের ত্রাণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

উড়িষ্যার বিশেষ কমিশনার পিকে জানা এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, আম্পানের তাণ্ডব থেকে বাঁচাতে ১১ লাখ মানুষকে সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে উড়িষ্যার মতো পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত দিঘায় শুরু হয়ে গিয়েছে আম্পানের তাণ্ডব।

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত থেকে প্রবল বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে দিঘায়।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পান বাংলাদেশের কাছাকাছি চলে এসেছে।

আবহাওয়াবিদরা ধারণা করছেন, আগামীকাল বিকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের ওপর আছড়ে পড়তে পারে আম্পান।

দেশের আবহাওয়া অধিদফতরের হিসাবে খুলনা ও চট্টগ্রাম উপকূলের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে আম্পান।

মঙ্গলবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া অধিদফতর বলেছে, সুপার সাইক্লোন কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সাইক্লোনের প্রভাবে বিভিন্ন স্থানে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে।

ভারতীয় আবহাওয়াবিদরা বলছে, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ, কাকদ্বীপ ও সুন্দরবন এলাকায় বেশি তাণ্ডব চালাবে। এর প্রভাবে আজ বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি ও কলকাতায় তুমুল বৃষ্টিপাত হবে। একই অবস্থা থাকবে বাংলাদেশের খুলনা, যশোর ও বরিশাল অঞ্চলে।

উল্লেখ্য, ১৯৭০ সালের বাংলাদেশে আঘাত করা সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়টির সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২২৪ কিলোমিটার। ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের সর্বোচ্চ গতিবেগ ২২৩ কিলোমিটার। আম্ফান ঘূর্ণিঝড়টি এরইমধ্যে সেই গতিবেগ ছাড়িয়ে গেছে। তাই এটি যদি সরাসরি দেশের উপকূলে আঘাত হানে তাহলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিসহ প্রাণহানির সম্ভাবনা রয়েছে।

(Visited 1 times, 1 visits today)

আরও পড়ুন

মৃত্যু বেড়ে ৩১১১,…
বাংলাদেশে বিমানবন্দর উন্নয়নে…
দেশে করোনায় আরও…
কাল পবিত্র হজ
দোষী সাব্যস্ত মালয়েশিয়ার…
বিশ্বজুড়ে করোনা থেকে…
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ…
গরুর মাংসের ঝাল…
ফের সীমান্তে ভারতীয়দের…

বৃহস্পতিবার শবে বরাত, তবে…

করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে বিশ্বজুড়ে প্রাণহানি…

করোনাঃ মৃত্যু ১, নতুন…

হাটহাজারীতে এক হাজার পরিবারের…

বন্ধু নির্বাচন করনীয়