রাউজান কলেজ মাঠে লাখো মুসলিম জনতার সুন্নি কনফারেন্সে আল্লামা তাহের শাহ (মা.জি.আ.)।

সকালের কণ্ঠ

মইনুদ্দিন জামাল চিশতী, রাউজান(চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ

রাউজান সরকারী কলেজ মাঠে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণকালের বৃহত্তম রাহমাতুল্লিল আলামিন সুন্নি কনফারেন্সে রাসুলে পাক (দ.) এর ৪১ তম বংশধর, রাহনুমায়ে শরীয়ত তরিক্বত, গাউছে জামান, আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ (মা.জি.আ.) হুজুর কিবলা বলেছেন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন অল্প সময়ের জন্য মানুষকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তাই এ সময়কে আখেরাতের জন্য কাজে লাগিয়ে মুত্তাকী বনে সমাজে ভাল কাজ করে মহান আল্লাহ ও তার রাসুল (দ.) এর সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের দেহ এবং প্রাণ খুব অল্প সময়ের জন্য একত্রিত আছে। আর এই সংক্ষিপ্ত সময়টিই এবাদত বন্দেগীর একমাত্র সুযোগ। যা কবরে হাশরে আর ফিরে পাওয়া যাবেনা। এ জন্য নিজেদেরকে মন্দ লোক থেকে রক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি দ্বীনি খেদমত করা অতিব জরুরি। হুজুর কেবলা আরো বলেন, তাওবার মাধ্যমে জীবনের সকল পাপ মোচন হয়ে যায় বটে, কিন্তু জালেম ও অপরের হক্ব ধ্বংসকারী, আত্মসাতকারীরা কোন পার পাবেনা। যতক্ষণ না তিনি মাজলুমের কাছে ক্ষমা না চাইবে কিংবা হক্ব আদায় না করবে। তাই তিনি নব দীক্ষিতদেরকে নির্দেশ দেন যেন সংশ্লিষ্ট ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে কিংবা হক্ব পরিশোধ করে এ ধরনের পাপীদের পাপ মোচন করে নতুনভাবে তরিক্বত জীবন শুরু করে দুনিয়া ও আখিরাতকে উজ্জল করেন এবং দেশ সমাজ, মুসলিম মিল্লাতকে অশান্তি ও হানাহানি থেকে রক্ষা করার কাজে আত্মনিয়োজিত হন।

১৬ নভেম্বর শনিবার রাতে রাউজান উপজেলা (উত্তর) গাউছিয়া কমিটি আয়োজিত রাহমাতুলল্লিল আলামিন সুন্নি কনফারেন্সে হুজুর কেবলা প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন শাহজাদা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ (মা.জি.আ), আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ হামিদ শাহ (মা.জি.আ.)।

বিজ্ঞাপন

রাউজান উপজেলা (উত্তর) শাখা গাউসিয়া কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা ইলিয়াছ নূরীর সভাপতিত্বে ও মাওলানা ইয়াসিন হোসাইন হায়দরী এবং অাহসান হাবিব চৌধুরী হাসানের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সহ সভাপতি আলহাজ মুহাম্মদ মহসিন, সেক্রেটারী জেনারেল আলহাজ্ব মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, জয়েন্ট সেক্রেটারী আলহাজ সিরাজুল হক, অালহাজ শামসুদ্দিন, গিয়াস উদ্দিন শাকের, অধ্যাপক কাজী শামসুর রহমান, গাউসিয়া কমিটির কেন্দ্রীয় পরিষদ চেয়ারম্যান পেয়ার মুহাম্মদ কমিশনার, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি ওবাইদুল হক নঈমী, রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুনায়দে কবির সোহাগ, অারব আমিরাত গাউছিয়া কমিটির সেক্রেটারি আলহাজ জানে আলম, উপজেলা অাওয়ামীলীগ সভাপতি কাজী অাব্দুল ওহাব । মাহফিলে বক্তব্য রাখেন গাউছিয়া কমিটির যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার, শায়খুল হাদিস অাল্লামা কাজী মঈনুদ্দিন অাশরাফি, মাওলানা জসিম উদ্দিন অাজহারি, অধ্যক্ষ রফিক অাহমদ ওসমানী, অধ্যক্ষ মারেফাতুন নুর, মাওলানা অাহমদ উল্লাহ ফোরকান, এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রকৌশলী নুরুল অাজিম, উপজেলা অাওয়ামীলীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি অানোয়ার ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক বশির উদ্দিন খান, রাউজান উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জমির উদ্দিন পারভেজ, তাওহিদুল অালম, ইউপি চেয়ারম্যান বিএম জসিম উদ্দিন হিরু, বাবুল মিয়া মেম্বার, অাব্দুল্লাহ অাল মামুন, কাউন্সিলর জানে অালম জনি, শওকত হোসেন, অাসাদ উল্লাহ, মাওলানা ইব্রাহিম নঈমী, অধ্যক্ষ অাবু জাফর, শাহাজাহান ইকবাল, সৈয়দ হোসেন কোম্পানী, অধ্যক্ষ অাবু মোস্তাক অাল কাদেরী, কামরুল অাহসান চৌধুরী, কমর উদ্দিন সবুর, হাবিব উল্লাহ মাস্টার, অাবু ইউচুপ চৌধুরী, সৈয়দ মুহাম্মদ হোসেন, উপজেলা গাউসিয়া কমিটি দক্ষিণের সভাপতি অাবু বক্কর সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ হানিফ।

উল্লেখ্য হুজুর কেবলার আগমন উপলক্ষে চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি সড়কে কনফারেন্সস্থল কলেজমাঠ পর্যন্ত বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কয়েক শতাধিক তোরণ ও ফেস্টুন নির্মাণ করে আওলাদে রাসুলের প্রতি সম্মান জানান। মঞ্চে হুজুরের আসন গ্রহণ পর্ব থেকে লাখো মুসলিম জনতা নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর নারায়ে রেসালাত ইয়া রাসুলুল্লাহ (দ.) শ্লোগান দিয়ে মুখরিত করে তোলে পুরো এলাকা। এদিন বাদে অাসর হাজার হাজার মহিলা রাউজান অার অার এসি স্কুল মাঠে আলাদা প্যান্ডেলে অবস্থান নিয়ে হুজুরের নসিহত শুনে তাঁর হাতে বায়াত গ্রহণ করেন।

মাহফিলে বক্তারা বলেন রাসুলে পাক (দ.) সমগ্র সৃষ্টি কুলের রহমত। তাই ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) সবার ঈদ। এমনকি সকল ঈদের সেরা ঈদ। জসনে জুলুছ এ সেরা নির্মল অানন্দকে অারও বেশী অাকর্ষনীয় এবং হৃদয়গ্রাহী করতে করে তুলেছে। অার বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বহু দেশে জসনে জুলুছেরমত ইসলামী সংস্কৃতি প্রবর্তনসহ শত শত মাদ্রাসা কায়েমের জন্য দরবারে দরবারে সিরিকোটের অবদান চির স্মরণীয় এ দরবারে কাম কর-দ্বীনকো বাচাও উপদেশটি অাজ বাণী চিরন্তন হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে লিখতে হবে। কারণ এমন নির্দেশনার প্রভাবে অাজ এ সিলসিলার লাখ লাখ মুরিদ- ভক্ত দ্বীন রক্ষার মিশনকে তাদের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে পালন করে যাচ্ছে বিধায় সুন্নিয়ত চর্চা অাজ দেশ ব্যাপী অাব্যাহত রয়েছে। শুধু তসবিহ নয়, বরং সেবাই অাসল তরিক্বত। অার দ্বীনের সেবা তথা ঈমান – অাক্বিদার সেবা হল সব সেবার উর্ধ্বে।

(Visited 1 times, 1 visits today)

আরও পড়ুন

ইসলাম গ্রহণ করলেন…
মৃত্যু বেড়ে ৩১১১,…
বাংলাদেশে বিমানবন্দর উন্নয়নে…
দেশে করোনায় আরও…
কাল পবিত্র হজ
দোষী সাব্যস্ত মালয়েশিয়ার…
বিশ্বজুড়ে করোনা থেকে…
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ…
গরুর মাংসের ঝাল…

বৃহস্পতিবার শবে বরাত, তবে…

করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে বিশ্বজুড়ে প্রাণহানি…

করোনাঃ মৃত্যু ১, নতুন…

হাটহাজারীতে এক হাজার পরিবারের…

বন্ধু নির্বাচন করনীয়