নিজস্ব প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি:

পার্বত্য খাগড়াছড়ির নবঘটিত গুইমারা উপজেলার প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রের কম্পাউন্ডারের অনিয়ম, দুর্ণীতি ও আধিপত্বে একদিকে যেমন সেবা বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলাবাসী, অন্যদিকে একই অফিসে তার উর্ধোতন কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মচারীরাও আতংকিত ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করছে।

উপজেলা সদরে প্রধান সড়কের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে নয়নঅভিরাম সরকারী এ ভবনটি। বাইরের চাকচিক্য দেখে যে কারোই চোখ জুড়িয়ে যাবে, মনে হবে এই উপজেলাবাসী কতইনা সৌভাগ্যবান। কিন্তু ভিতরের দৃশ্যটা একটু ভিন্ন। দূরদূরান্ত থেকে সেবাগ্রহিতারা সেবার আসায় ছুটে আসলেও এখানে সেবা যেন মরিচিকা। এখানে রয়েছেন নাছির উদ্দিন নামে একজন স্থাণীয় প্রতাপশালী কম্পাউন্ডার। নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক একাধিক স্থানীয় লোক জানান তিনি অনেক ক্ষমতাবান জানিনা তার খুঁটির জোর কোথায় এর আগেও তিনি এই অফিসে নারী ঘটিত অপকর্ম করেও বহাল তবিয়তেই রয়েছেন। দূরদূরান্ত থেকে আগত সেবা গ্রহিতাদের সাথেও তিনি অশালীন আচরণ করেন।

সরেজমিনে গেলে এই কর্মচারীর দেখা মেলে তার অফিসে কুশল বিনিময় করে তার সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি জেলা সদরে কাজ আছে বলে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষন পরেই আবার ফিরে আসেন। জানতে চান আপনারা কারা সাংবাদিক পরিচয় পেতেই তেলে বেগুনে রেগে গিয়ে তিনি অকথ্য অশালীন আচরণ শুরু করেন।

এই গুনোধর কর্মচারীর ব্যাপারে তার সহকর্মীদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন ভাই আমরা সরকারী চাকুরী করি তার উপর উপজাতি আমরা আতংকিত সবসময় উনি যখন তখন যার তার সাথে অশালীন আচরণ করেন। সবসময় তার সাথে অফিসে তার স্পাই থাকে। যারা এই অফিসের কোন কর্মকর্তা কর্মচারী নন।শুনেছি উনার বড়ভাই নাকি কোন এক বড় নেতা তাই তার ভয়ে সবাই সবসময় আতংকিত থাকি। আমাদের উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তাকেও তিনি মানেননা। উনিও বিপদে আছেন,

তার বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.আবুরেজা তালুকদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ভাই আমি নিজেই বিপদে আছি, আপনাদেরকে যদি কোন তথ্য দিই তাহলেতো আমি আরো বিপদে পড়তে পারি। সে এই জেলার স্থানীয় লোক। তাই বলে মিথ্যেতো বলা সম্ভব নয়। সে আমার সেবা গ্রহিতাদের সাথে যেমন অশালীন আচরণ করেন তেমনি আমার সাথেও করেন। কি ধরনের অশালিন আচরণ করেন জানতে চাইলে বলেন, এই ধরেন একটা কাগজ নিয়ে আসলো বল্লো এখান সাইন লাগবে, দিতে একটু দেরি হলে দেখা যায় সে আমাকে ধমকিয়ে এখন সাইন লাগবে এখন সাইন করেন বলে জোর করে সাইন করিয়ে নেন। একজন উর্ধোতন কর্মকর্তা হিসেবে তিনি আমার সাথে এভাবে কথা বলতে পারেননা। কিন্তু তিনি তাই করছেন। এবং আমি যখন এই অফিসে নতুন যোগদান করি তখন তিনি আমার কাছে বিশ হাজার টাকা চাঁদাও দাবী করেন। এই বিষয়ে আমি তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিত অভিযোগও করেছি। আমার নিজেরই তার জ্বালায় চাকরী করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা হয় জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শেখ আবাদুল মান্নানের সাথে। তিনি বলেন তার বিরুদ্ধে এর আগেও অনেক অভিযোগ ছিল আমি তাকে অনেকবার সাশিয়েছি কিন্তু তার কোন পরিবর্তন নেই। সে কোথাও মিলেমিশে থাকতে পারেনা। তবে কেউ যদি তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে প্রমানীত করতে পারে তাহলে আমরা ব্যাবস্থা নেব।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তুষার আহম্মেদ বলেন, আমিতো নতুন এসেছি বিষয়টি আমি জানতামনা। এখন যখন জানতে পেরেছি বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেব।

(Visited 1 times, 1 visits today)

আরও পড়ুন

করোনা প্রতিরোধে ব্যতিক্রমী…
কলকাতায় লকডাউনে সংসার…
ইতালিতে করোনায় একদিনেই…
বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে…
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে…
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম…
নিজে ভালো থাকুন,…
করোনা থেকে সুরক্ষায়…
রাশিয়ায় ৭.৫ মাত্রার…

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে পাক…

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে রাত…

নিজে ভালো থাকুন, দেশকে…

করোনা থেকে সুরক্ষায় বিশ্বময়…

করোনায় নিউ ইয়র্কে একদিনে…