চান্দিনায় গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টায় বাঁধা দেওয়ায় স্বামী খুন।

সকালের কণ্ঠ

আলিফ মাহমুদ কায়সার, কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার চান্দিনায় সেহেরী রান্নার সময় এক গৃহবধূকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টায় বাঁধা দেওয়ায় ছুড়িকাঘাত করে স্বামীকে খুন করেছে প্রতিবেশী দুই মামা। গত বৃহস্পতিবার রাতে চান্দিনা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড ছায়কোট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই দুই মামাকে আটক করেছে চান্দিনা থানা পুলিশ।

গৃহবধূর নিহত স্বামী ছায়কোট এলাকার মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে। আর আটককৃতরা হলেন- জানেআলম (৩৫) ও তার ভাই মোর্সেদ (৩৭)। এরা একই এলাকার রহমান ড্রাইভারের ছেলে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মে দিবাগত রাতে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনাটি ঘটে। আর ওই ঘটনার রেশ ধরে বৃহস্পতিবার ইফতারের পর গৃহবধূর স্বামীকে ছুরিকাঘাত করে ধর্ষণের চেষ্টাকারী জানে আলম। পরে রাত ১টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

নিহতের মা জানান, গত ২৭ মে (সোমবার) দিবাগত রাত ২টায় আমার পুত্রবধূ রান্না ঘরে সেহেরি তৈরি করছিল। এ সময় প্রতিবেশি জানে আলম আমার পুত্রবধূকে রান্নাঘর থেকে মুখ চেপে ধরে পাশের একটি জমিতে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় গৃহবধূর চিৎকার শুনে আমার দুই ছেলে ফারুক ও জালালসহ বাড়ির লোকজন বের হলে জানে আলম তাকে ছেড়ে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পরপর আমার দুই ছেলে সহ অন্যান্যরা জানে আলমের বাড়িতে গেলে জানে আলম উল্টো আমার ছেলেদের মেরে ফেরার হুমকি দেয়।
পরদিন মঙ্গলবার সকালে আমরা এলাকার কাউন্সিলরসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানাই এবং তারা জানে আলমের বাড়িতে গিয়ে তাকে পায়নি। মঙ্গলবার ভোর থেকেই জানে আলম আত্মগোপন করে।

তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার ইফতারের পর প্রচণ্ড গরমে আমার ছেলে ফারুক হোসেন আমাদের বসত ঘর সংলগ্ন একটি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিল। এ সময় জানে আলম ও তার ভাই মোর্সেদ এসে বিষয়টি কেন এলাকায় জানাজানি হলো বলেই আমার ছেলের পেটে ছুড়িকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল সালাম জানান, দুইটি পরিবারই হতদরিদ্র। তবে জানে আলম মাদকাসক্ত এবং চরিত্রহীন। ভোর রাতের সেহেরি তৈরি করার উদ্দেশে গৃহবধূ বাহিরের রান্না ঘরে রান্না করছিল। এ সময় তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে জানে আলম। ঘটনার পর সে আত্মগোপন করে এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফারুককে হত্যা করার উদ্দেশেই ছুড়ি নিয়ে বাড়িতে আসে।

এ ব্যাপারে চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবুল ফয়সল জানান, ছুড়িকাঘাত করার পরপর নিহতের মা নাছিমা বেগম বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা রাত ৯টায় ধর্ষণের ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগে মামলা গ্রহণ করি। রাত সাড়ে ১২টার মধ্যে ঘটনার মূলহোতা জানে আলমসহ তার বড় ভাই মোর্সেদকে আটক করি। রাত অনুমান ১টার দিকে ঢামেকে মৃত্যু ঘটে ছুড়িকাঘাতে আহত ফারুক হোসেনের। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

(Visited 1 times, 1 visits today)

আরও পড়ুন

চান্দিনায় করোনার সচেতনতায়…
আহত হয়েও সন্ত্রাসীকে…
যশোরে হোম কোয়ারেন্টাইন…
করোনার ভয়ে হিন্দু…
মাঝি-কুলি-দিনমজুরদের পাশে বিআইডব্লিউটিএ,…
চান্দিনা প্রশাসন কতৃর্ক…
রংপুর মেডিকেলে করোনা…
সিলেটের রাস্তায় পড়ে…
চান্দিনায় করোনা ভাইরাস…

যশোরে হোম কোয়ারেন্টাইন শেষে…

রংপুর মেডিকেলে করোনা ইউনিটে…

সিলেটের রাস্তায় পড়ে থাকা…

কাতারে করোনায় ১ বাংলাদেশির…

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে পাক…